দ্বিতীয় সেশনেই অলআউটের শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। কিছুক্ষণের জন্য সেটা ঠেকিয়ে রাখলেও তৃতীয় সেশনের শুরুতেই সফরকারীদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। ২৩২ রানে অলআউট করে দিয়ে ৪৬ রানের বড় এক লিড নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।প্রথম দিন শেষে লিটন দাস জানিয়েছিলেন, বোলারদের দিকে তাকিয়ে আছে দল। বোলাররা আজ সকালে সে আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ভালোভাবেই। শুরু থেকেই চাপে রেখেছেন পাক ব্যাটারদের।
তার সফলতা মেলে দিনের দ্বিতীয় ওভারেই। পাকিস্তানকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যায় লিটন দাসের কাছে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে সেই ক্যাচ ধরেছেন লিটন। প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আজান ওয়াইসও সাজঘরের পথ ধরেছেন একটু পর। তাসকিন আহমেদের একটু দেরিতে সুইং করা ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৪ বল খেলে মাত্র ১৩ রান করে ফিরেছেন আজান। এরপর শান মাসুদ ও বাবর আজম মিলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে বাংলাদেশ সুযোগ তৈরি করেছে ঠিকই। শরীফুল ইসলামের একটি ডেলিভারি বাবরের ব্যাট ছুঁয়ে অল্পের জন্য লিটনের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। একটু পর নাহিদ রানার বলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তার ১৪৪ কিমি গতির বল শান মাসুদের প্যাডে আঘাত হানে। যদিও রিভিউতে দেখা যায়, বলটা তার ব্যাটে লেগেই প্যাডে গিয়েছিল।
এরপরও অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেনি মাসুদ-বাবরের জুটি। শরিফুলকে সরিয়ে নাহিদ রানাকে আনেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অন্য প্রান্তে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ওভারেই মাসুদকে আউট করেন মিরাজ। তার ডেলিভারিতে শর্ট কাভারে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২১ রানে ফিরেছেন মাসুদ। তখন পাকিস্তানের রান ৬১। এরপর মিরাজ চাপ তৈরি করতে থাকেন সৌদ শাকিলের ওপর। ২৮ বলে মাত্র ৮ রান করেছিলেন শাকিল। সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সুইপ শট খেলতে গিয়েছিলেন। বলটি ব্যাটের আগায় লেগে ওপরে উঠে যায়। সহজ ক্যাচ ধরেন লিটন। ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় সেশনে লাঞ্চের পর ফিরেই দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন বাবর আজম ও সালমান আগা। দুজনের জুটিতে এসেছিল ৫৫ রান। বাবর করেছিলেন ৬৩ বলে ফিফটি, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩১তম। কিন্তু সেঞ্চুরি পাননি তিনি। নাহিদ রানার মিডল স্টাম্পের ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ তুলে ৬৮ রানে ফেরেন বাবর। হতাশ মুখে মাঠ ছেড়ে যান পাকিস্তানের এই ভরসার ব্যাটসম্যান।
বাবরের পর সালমান আগাও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। তাইজুল ইসলামের বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মুমিনুলের হাতে ক্যাচ দিলেন। ২১ রান করে ফিরলেন সালমান। এরপর উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান রিজওয়ানের দিকে তাকিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে মাত্র ১৩ রানে ফেরেন তিনি। তখন পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ১০৪ রানে পিছিয়ে। এরপর হাসান আলীও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। তাইজুলের বলে লং অনে ক্যাচ দিলেন হাসান। সেই ক্যাচটি নিয়েছেন নাহিদ রানা, দুবার চেষ্টার পর দুই হাতে ধরেছেন। ১৮ রানে ফিরলেন হাসান। চা বিরতি শেষে ফিরেই নাহিদ রানা ফেরান খুররম শেহজাদকে। শেষ উইকেটে সাজিদ খান ৪ ছক্কা হাঁকিয়ে চোখরাঙানি দিচ্ছিলেন বাংলাদেশকে। তবে দলীয় ২৩২ রানে তাকে সাজঘরে ফেরান রানা। বাংলাদেশ পেয়ে যায় ৪৬ রানের বড় লিড।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন